শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সানফ্লাওয়ার ল্যাবরেটরী স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ভাঙ্গায় খামারীদের মাঝে মিল্ক ক্রিম সেপারেটর মেশিন সামগ্রী বিতরণ সালথায় আইসিভিজিডি এর ২য় প্রকল্পের উপজেলা অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে চোর চক্রের ৫ সদস্য আটক ফরিদপুরে প্যাণেল মেয়রের তত্ত্বাবধানে চলছে মশা নিধনের কার্যক্রম ভাঙ্গায় পৌর নির্বাচনে প্রার্থীদের সাথে প্রশাসনের মতবিনিময় ফরিদপুরের পারচরে তৃতীয় বার্ষিকী মতুয়া মহোৎসবের উদ্বোধন ফরিদপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের নব-নির্মিত নিজস্ব কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন ফরিদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান খান স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে রাধা অষ্টমী উৎসব পালন

বিবাহের ২৮ দিন পরে লাশ হয়ে ফিরল গৃহবধু অর্চনা

  • Update Time : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮.৩৭ পিএম
  • ৪০৭ Time View
বিবাহের ২৮ দিন পরে লাশ হয়ে ফিরল গৃহবধু অর্চনা
বিবাহের ২৮ দিন পরে লাশ হয়ে ফিরল গৃহবধু অর্চনা

বিবাহের ২৮ দিন পরে লাশ হয়ে ফিরল গৃহবধু অর্চনা

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিবাহের ২৮ দিন পরে যৌতুক ও স্বামীর বন্ধুদের লালসার শিকার হয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ফরিদপুর পৌরসভার বর্ধিত ৫ নং ওয়ার্ড এর মুরারিদহ গ্রামের বাসিন্দা মৃত রঞ্জিত কর্মকার এর মেয়ে অর্চনা কর্মকার(২০)। এমনকি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রদান না করেই গৃহবধূ স্বইচ্ছায় আত্নহত্যা করেছে মর্মে ঐ মেয়ের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

মেয়ের ভাই সুর্বত কর্মকার এর অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১০ ই আগস্ট মাগুরা সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা পরাণ কর্মকার এর পুত্র প্রসেনজিৎ কর্মকার (৩০) এর সাথে হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের সময় সাড়ে ৫ ভড়ি স্বর্ণালঙ্কার দিলেও বিবাহের পরবর্তি সময়ে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকে। এই বিবাহের পরই অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ ৬০ হাজার টাকা জন্য অর্চনাকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিলেও তাহা প্রকাশ না করে নিরবে মুখ বুজে সহ্য করে অর্চনা।

এরই ধারাবাহিকতায় মারা যাওয়ার ৩ দিন আগে অর্চনা হঠাৎ করেই আমাদের বাড়ি আসার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তার কথা বুঝতে না পেরে আমরা এড়িয়ে যাই। পরে গত ৯ ই সেপ্টেম্বর সকালে শিবরামপুর গ্রামবাসীর নিকট হতে অর্চনার মারা যাওয়ার খবর পাই। খবর পেয়ে অর্চনার শ্বসুর বাড়ির লোকজনের নিকট হতে ঘটনা জানার চেষ্টা করলে তারা ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে একপর্যায়ে তারা শিকার করে যে অর্চনা নিজেই আত্ন্যহত্যা করেছে। পরে আমাদের নিকটাত্নীয়সহ বেশ কিছু লোকজন মাগুরায় গেলে লাশের কাছে যেতে আমাদের বাঁধা দেয় অর্চনার শ্বসুর বাড়ির লোকজন।

পরস্পর আমরা জানতে পারি গত ৮ ই সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী প্রসনজিৎ এর বন্ধুদের নিয়ে একটি ভূড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়। ঐ রাতে তার বেশ কিছু উশৃঙ্খল বন্ধুদের নিয়ে প্রসেনজিৎ খারাপ কাজে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ জানায় খুব সকালে সে হাটতে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে আসলে দরজা বন্ধ অবস্থায় ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় অর্চনার লাশ উদ্ধার করি। সুর্বত কর্মকার অভিযোগে আরো বলেন মৃত অর্চনার শরীরে বিভিন্ন যায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এমনকি তার ঠোটে আঘাতের চিহ্ন ও যৌনাঙ্গ দিয়েও রক্ত বের হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে।

হয়তো আগের দিন রাতে প্রসেনজিৎ ও তার ধন্যাঢ্য পরিবারের বন্ধুদের নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর ফলেই হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে উক্ত ঘটনার জের ধরে মাগুরা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক ইকবাল মাহমুদ তদন্ত করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট এর কাগজপত্র না দিয়েই অর্চনার লাশ আমাদের নিকট হস্তান্তর করে। তবে এই লাশ প্রসেনজিৎ ও তার বাড়ির লোকজন আমাদের নিকট হস্তান্তর করতে না চাইলেও আমাদের আত্নীয় স্বজনের সহযোগিতায় অর্চনার লাশ ফরিদপুরে নিয়ে আসি।

এ ঘটনায় আমরা মাগুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ কোন আইনি সহযোগিতা না দিয়ে আমাদের নিরব থাকার পরামর্শ দেয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত প্রসেনজিৎকে ঐ দিন সকালে পুলিশের হেফাজতে নিলেও তদন্ত কর্মকর্তা আমার বড় ভাই রমেশ কর্মকার এর নিকট হতে একটি সাদা কাগজে সহি নেওয়ার পরেই প্রসেনজিৎকে ছেড়ে দেয়। এমনকি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রভাবশালী লোকজনদের দিয়ে কোন মামলা বা ঘটনা কারো নিকট প্রকাশ না করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করছে।

বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই পরিবারের নিরাপত্তাসহ মৃত অচর্নার প্রকৃত হত্যার রহস্য উধঘাটন পুর্বক প্রকৃত দোষিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুর্বত কর্মকারসহ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে জানার জন্য মাগুরা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক ইকবাল মাহমুদ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, গত ৯ই সেপ্টেম্বর উক্ত লাশটি বাড়ির উঠোনে পড়া অবস্থায় সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে প্রাথমিক অবস্থায় স্বামী প্রসেনজিৎকে আটক করি।

কিন্তু মৃত ব্যাক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা কোন অভিযোগ না পেয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রসেনজিৎকে ছেরে দিয়ে লাশটি মৃতের ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যার কোন বিষয় থাকলে বা এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ছাড়া সাদা কাগজে সহি নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী প্রসনেজিৎ এর মুঠোফোনে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোনটি ধরেননি।

Prayer Timer

Prayer Timer

Share

আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Jamat Salat Time and Date

Jamat Salat Time and Date

যোগাযোগঃ- এস-টেক সপ
৩১,৩২ রাকিবউদ্দীন পৌর মার্কেট গোয়লচামট,ফরিদপুর।
মোবাইলঃ 01733160122
ওয়েবঃ https://s-techshop.com

অটো ব্রিকস্

অটো ব্রিকস্

স্বয়ংক্রিয় মেশিনে উৎপাদনকৃত

© স্বত্ব দৈনিক নাগরিক দাবী  - ২০১৯-২০২১
Design by S-Tech Shop