শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শেখ কামালের ৭২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ফরিদপুর পৌরসভায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালন শেখ কামাল জাতির পিতার সাথে মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন- অতুল সরকার সালথায় জমি দখল করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ফরিদপুর জেলা শাখার আইনজীবী সদস্য আহবান ফরিদপুরে অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ ফরিদপুরে ডক্টর যশোদা জীবন দেবনাথ সিআইপির উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সালথায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত পিতা, মাতার ভরণ-পোষন নিশ্চিত করে আইন প্রকাশ : অমান্যকারিকে বিপুল পরিমান জরিমানার ঘোষনা ফরিদপুরে করোনা ভ্যাকসিনের জন্য ফ্রি রেজিস্ট্রেশন শুরু

ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী গরু হাটের সন্নিকটে অস্থায়ী হাটের অনুমোদন “পৌরসভার প্রতি অবিচার বলে মনে করেন পৌরপরিষদ”

  • Update Time : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১, ৯.৩৩ পিএম
  • ৬৪৬ Time View

ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী গরু হাটের সন্নিকটে অস্থায়ী হাটের অনুমোদন “পৌরসভার প্রতি অবিচার বলে মনে করেন পৌরপরিষদ”

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী টেপাখোলা গরু হাটের মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড়ে সিএনবি ঘাট এলাকায় ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে একটি অস্থায়ী গরুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনাকে পৌরসভার প্রতি অবিচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পৌরপরিষদ। এ ঘটনায় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন ঐতিহ্যবাহী টেপাখোলা গরু হাটের ইজারাদার। হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী টেপাখোলা গরুর হাট।

শতবর্ষের প্রাচীন ফরিদপুর শহরের টেপাখোরা গরুর হাট। এ হাটে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি আশেপাশের জেলার ক্রেতারাও গরু কিনতে আসেন। হাটের গুরুত্ব বাড়ায় প্রতি বছরই প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে হাটটি নেওয়ায় প্রতিবছরই বেড়েছে ইজারা মূল্য। ফরিদপুর পৌরসভা পরিচালত এ হাটটি চলতি ১৪২৮ বাংলা সালের জন্য ছয় কোটি ১১ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন শ্রাবণী কনষ্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান।

জেলা প্রশাসন গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে টেপাখোলা গরুহাটের প্রায় দেড় কিলোমিটারের মধ্যে পদ্মা নদীর পাড়ে সিএনবি ঘাট এলাকায় একটি অস্থায়ী গরুর হাট ইজারা দেওয়ার জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। সিএনবি ঘাট ফরিদপুর পৌরসভার বাইরে ডিক্রিরচর ইউনিয়নে আবস্থিত। ওই দরপত্র অনুযায়ী গত ২২ জুন সিএনবি ঘাটের অস্থায়ী হাটটি ইজারা পান ডিক্রির চর ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসানেরর ভাই আলমগীর হোসেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান, টেপাখোলা গরু হাটের ইজারাদার শ্রবণী কনষ্ট্রাকশনের সিদ্দিকুর রহমান। তিনি এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে পৌরসভার মেয়রের নিকট একটি আবেদন জানিয়ে ‘টেপাখোলা গো হাঁটের কাছাকাছি সিএন্ডবি ঘাটে অবৈধ গো হাঁট বসানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার’ আবেদন জানান। অনুলিপি দেওয়া হয় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে।

ওই আবেদনে বলা হয়, কাছাকাছি দুটি গো হাট হলে তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ওই আবেদনে সিএনবি ঘাটের গোট হাট বন্ধ করা না হলে তাকে ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গো হাটের মূল আয় হয় ইদুল ফিতর থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময়কালে। ওই সময় ইজারার ৭০ থেকে ৮০ ভাগ টাকা ওঠে। লক ডাউনের কারনে ঈদুল ফিতরের পর থেকে এ পর্যন্ত চারটি হাট করা সম্ভব হয়নি।

এই অবস্থায় নাকের ডগায় অবস্থিত সিএনবি ঘাটের হাটটিতে ব্যবসায়ীরা চলে যাবে কম হাসিলের কারনে। যদি প্রশাসনের সহায়তায় অস্থায়ী হাটের নামে এ ভাবে রাতারাতি লাভবান হওয়া যায়, তাহলে আগামীতে কেউ আর স্থায়ী হাটগুলি ইজারা নেওয়ার ব্যাপারে রাজী হবেন না। তখন সবাই অস্থায়ী হাটের সুযোগ খুজবে। এর ফলে প্রভাব পড়বে সরকারের রাজস্ব আয়ে। তবে সিদ্দিকের আবেদন আমলে না দিয়ে গত ১৫ জুলাই থেকে সিএন্ডবি ঘাটের অস্থায়ী গোহাটে গরু বিক্রির অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অস্থায়ী কোন গো হাটকে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা জেলা প্রশাসক সংরক্ষণ করেন। তিনি (জেলা প্রশাসক) ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব নিয়ে ঈদের আগে অস্থায়ী এ জাতীয় হাটের অনুমোদন দিতে পারেন। এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস বলেন, টেপাখোলার হাটটি একটি ঐতিহাসিক হাট। পাশাপাশি এটি পৌরসভার আয়ের একটি বড় উৎস। ওই হাট থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিএনবি ঘাটের হাটটি প্রায় বিনামূল্যে অনুমোদন দেওয়ার অর্থ টেপাখোলা গো হাটকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। এবার যারা হাট নিয়েছে তারা টাকা তুলতে না পারলে আগামীতে এ হাট কেউ নিতে রাজি হবে না। শতবর্ষের এ গরু হাটের কাছে বিনামূল্যে একটি হাট বসানো মানে এ হাটটি ধংস করা। এটি পৌরসভার রাজস্ব আদায় ও পৌরসভার প্রতি একটি আঘাত।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, অস্থায়ী হাটটি অনুমোদন দিয়ে ফেলেছি। এখন তো পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। তবে টেপাখোলা গো হাট নিয়ে এখন যে কথাগুলি বলা হচ্ছে তা আগে আমাকে বললে এ অনুমোদন না দেওয়ার সুযোগ ছিল। উল্লেখ্য এই অস্থায়ী হাট নিয়ে পুর্বেও চলমান থাকা অবস্থায় বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও টিভি চ্যাণেল প্রকাশ হয় এবং উপজেলা প্রশাসন অবগত ছিলেন ও ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করেছিলেন।

এ ছাড়াও উক্ত হাটটি অনুমোদনের প্রায় এক সপ্তাহ পুর্বে রাতের আধারে মিলানো হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি অবগত হওয়ার পরেও কোন ধরনের ব্যাবস্থা গ্রহন করেননি বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Prayer Timer

Prayer Timer

Share

আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Jamat Salat Time and Date

Jamat Salat Time and Date

যোগাযোগঃ- এস-টেক সপ
৩১,৩২ রাকিবউদ্দীন পৌর মার্কেট গোয়লচামট,ফরিদপুর।
মোবাইলঃ 01733160122
ওয়েবঃ https://s-techshop.com

অটো ব্রিকস্

অটো ব্রিকস্

স্বয়ংক্রিয় মেশিনে উৎপাদনকৃত

© স্বত্ব দৈনিক নাগরিক দাবী  - ২০১৯-২০২১
Design by S-Tech Shop