শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শেখ কামালের ৭২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ফরিদপুর পৌরসভায় শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালন শেখ কামাল জাতির পিতার সাথে মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন- অতুল সরকার সালথায় জমি দখল করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ফরিদপুর জেলা শাখার আইনজীবী সদস্য আহবান ফরিদপুরে অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ ফরিদপুরে ডক্টর যশোদা জীবন দেবনাথ সিআইপির উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সালথায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত পিতা, মাতার ভরণ-পোষন নিশ্চিত করে আইন প্রকাশ : অমান্যকারিকে বিপুল পরিমান জরিমানার ঘোষনা ফরিদপুরে করোনা ভ্যাকসিনের জন্য ফ্রি রেজিস্ট্রেশন শুরু

ফরিদপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বাবদ অসহায়দের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নিল ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু

  • Update Time : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১, ৮.২৮ পিএম
  • ১৬৯৩ Time View

ফরিদপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বাবদ অসহায়দের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নিল ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু

নিজস্ব প্রতিবেদক : কেমন আছে ফরিদপুরে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহহীন সাড়ে তিন হাজার সুবিধাভোগিরা। জেলার বিভিন্ন ছিন্নমুল এসব পরিবার নতুন ঠিকানায় কিভাবে বা জীবন যাপন করছে। জানা গেছে, “দেশের ছিন্নমুল জনগোষ্ঠির একজনও গৃহহীন থাকবে না। প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন নির্দেশে সারা দেশের ন্যায় ফরিদপুরের নয়টি উপজেলায় তিন দফায় সর্ব মোট তিন হাজার ৬ শত ৭টি ঘর নির্মিত হয়।

গত বছর নভেম্বর থেকে এ সকল ঘরের নির্মান কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে ঘরগুলির নির্মান কাজ শেষের পর্যায়ে। তবে বেশির ভাগ ঘর সুবিধা ভোগিদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা রাস্তার ধারে কিংবা ক্ষেতের মধ্যে খাস জমিতে একটি লাল টিনের ঘর। ঘরে রয়েছে দুটি বেড রুম, রান্না ঘর, টয়লেট সাথে বারান্দা ব্যাবস্থা। ঘরসহ দুই শতাংশের বরাদ্দ পাওয়া সুবিধা ভোগিরা নতুন করে সংসার গোছানোয় নানা ধরনের পরিকল্পনায় ব্যাস্ত সময় পার করছে। কেই হাস মুরগি কিংবা গবাদি পশু পালন করছে।

কেই আবার স্বল্প জমিতে ফলজ গাছের পাশাপাশি নানা ধরনের গাছ রোপন করছে। নতুন ঘর হরেও এটাই তাদের স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা। তাই যেটুকু পেয়েছে তার মধ্যে জীবন গড়ার প্রত্যয়ে স্বপ্নে বিভোর এসব আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা। আলফাডাঙ্গার অন্ধ ভিক্ষুক মেহেরুন নেছা জানান, ভাবতেই পারছিনা আমার মতো অন্ধ মানুষের একটা বাস্থান হবে। ঘর পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি। প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদের পাশাপাশি তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

সদর উপজেলার ডিক্রীরচর ইউনিয়নের রহিমা খাতুন, জাহাঙ্গির শেখ, ও রুবিয়া বেগম বলেন আমরা এখানে এসেছি সপ্তাহ খানেক আগে। ১২ ঘরে আমরা বিভিন্ন স্থানে ১২ টি পরিবার নতুন ভাবে বসবাস করছি। নতুন ঘরে নতুন পরিবারের সাথে মানিয়ে নিচ্ছি। এবারের ঈদটি আমাদের কাছে উৎসবের মধ্য দিয়ে কাটবে। ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা বলেন, ৩টি ধাপে মোট ৪শত ৬৫ টি ঘর বরাদ্দ পায়। এর মধ্যে বেশিরভাগ ঘরের কাজ সম্পুর্ন হয়েছে। সরকার আশ্রয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের একটি দৃষ্টিনন্দন ঘর ছাড়াও পানি বিদ্যুৎ সব ধরনের সুবিধা পাচ্ছে বিনা খরচে।

নগরকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জেতি প্রু বলেন, আমার উপজেলায় ৩ শত ২৫ টি ঘর পেয়েছি। যার মধ্যে ১০৫ টি নির্মান শেষে গৃহহীনদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। বাকী কাজ চলমান রয়েছে। আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরকাতলাসুরে নির্মিত হচ্ছে “স্বপ্ন বিলাস”। যার মধ্যে রয়েছে তিন শত ঘর। এখানে রয়েছে মসজিদ-মন্দির, ঈদ গাঁ, খেলার মাঠ, শিশু পার্ক, ইকো পার্ক, কবরস্থান-শ্বষান, বাজারসহ সব ধরনের সুবিধা এমনটি বললেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহি।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সমন্বেয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ব নন্দিত মহতি এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের লক্ষে আমরা টিম হিসাবে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জেলার এ সব আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনের মান উন্নয়ন হবে বলে আমি আশাবাদ ব্যাক্তি করছি।

এদিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পদ্মানদীর ওপাড়ে পালডাঙ্গী এলাকায় ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু ১২টি পরিবারের কাছ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা নিয়ে ঘর প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে লক্ষ্য করা গেছে শহরতলীর ধরার মোড় এলাকা থেকে পদ্মা নদী পাড় হয়ে আনুমানিক পাঁচশ মিটার এগুতেই দেখা মেলে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পটির।

সেখানে ২৪ শতাংশ জমির উপর ১২টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। একটি ঘরের নিবাসী কৃষক দুদু মোল্লা (৫২) বলেন, নদীতে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেলে এ এলাকায় এসে ঘর তুলেছিলাম। চেয়ারম্যান আইসা বলে, ‘আপনি ঘর ভাইঙ্গা দ্যান আপনারে একটা ঘর দেবানে’। খরচের জন্য তিনি ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। গত দুই মাস ধরে ঘরে উঠেছেন তিনি।  এখন পর্যন্ত দলিল পাননি।

 

আরেক নিবাসীর নাম ছবি বেগম (৬২)। তিনি মৃত নুরুদ্দীন মোল্লার স্ত্রী। তার দুই ছেলে, তারা বিয়ে করে আলাদা থাকেন। ছবি বেগম বলেন, দুই বছর আগে নদীতে ভাঙ্গা শিকার হয়ে এখানে এসেছি। এ ঘরের জন্য ২৫ হাজার টাকা দিতে হইছে ইউপি চেয়ারম্যানকে। বলছে এ টাকা নাকি এটা ক্যারিং খরচের জন্য দিতে হবে।

নিবাসী মেহেদী হাসান অনিক (২৪) বলেন, এখানে তার দাদি রহিমা বেগমের নামে এক ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরজন্য চেয়ারম্যানকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আরেক নিবাসী সোনিয়া বেগম (২১) বলেন, যে জায়গায় তার ঘর করে দেওয়া হয়েছে সে জায়গাটি অন্য জায়গা থেকে নিচু ছিল। ওই জায়গার মাটি ভরাটের জন্য ১৪ হাজার ও ঘরের জন্য ২৫ হাজার মোট ৩৯ হাজার টাকা দিতে হয়েছে চেয়ারম্যান মেহেদীকে।

নিবাসীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, একটি মাত্র টিউবয়েল দেওয়া হয়েছে ওই ১২টি পরিবারের ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সেটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে, পানি ওঠেনা। এ কথা ইউপি চেযারম্যান কে বলায় তিনি প্রত্যেক পরিবারের কাছে ৯০০ করে টাকা চেয়েছেন টিউবয়েল দেওয়া জন্য। বিদ্যুৎলাইনের জন্য পল্লিবিদ্যুতের লোকদের ঘর প্রতি দুই হাজার পাঁচ টাকা দিতে হয়েছে, এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি।

এছাড়া ঘরের দলিল করা বাবদ দিতে হয়েছে একহাজার দুইশত টাকা, এখনও কোন নিবাসীকে ঘরের দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। নিবাসীদের কাছ থেকে জানা গেছে গত পাঁচমাস আগে এ ঘরগুলির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শেষ হয়েছে গত দুইমাস আগে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান’উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে এ ঘর গুলি নির্মাণ করা হয়েছে।

ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, পদ্মা নদীর ওই পাড়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দিতে রাজি ছিলেন না ইউএনও। আমিই বলে  বরাদ্দ করেছি। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী ওই জায়গায় নেওয়ার ব্যাপারে কোন ক্যারিং কষ্ট (পরিবহনখরচ) বরাদ্দ ছিলনা। এজন্য উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২৫ হাজার করে টাকা চাওয়া হয়েছিল। ওই টাকা কেউ কেউ দিয়েছে, কেউ কেউ দেয়নি, আবার কেউ কেউ কম দিয়েছে। সব হিসাবই আমার কাছে লেখা ঝোকা আছে। আমি নিজে কোন টাকা ধরিনি।

উল্লেখ্য ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রীরচার ইউনিয়নের আলোচিত দূর্নীতবাজ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু ফকির অবৈধ বেকু দিয়ে মাটি কাটাসহ বিভিন্ন অপকর্মের মহানায়ক হিসাবে নিজেকে জরিয়ে টেন্ডারবাজদের সহযোগি হয়ে দীর্ঘ দিন যাবত সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করলেও বিভিন্ন অজুহাতে নিজেকে অন্তরালে রেখেছে। এ ছাড়াও এলাকাবাসী সুত্রে, এই দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান মিন্টু ফকিরের নামে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তার দাপটে ক্ষমতার জোরে এই দূর্নীতগুলো কখনোই প্রকাশ পায়নি সচেতন বাংলাদেশে। যেন মনে হয় তার বিরুদ্ধে কথা বলার মত বা তার অনিয়মগুলো দেখার মত কেউ নেই।

ফরিদপুরের দুর্নীতির বরপুত্র রুবেল বরকতের নাম আলোচনায় আসলেও স্বাস্থ্য খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকা লোপাট করে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে এই দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান মিন্টুর খালাতো ভাই আফজাল হোসেন। এই আফজাল হোসেনকে ব্যাবহার করে রুবেল বরকতের অন্যতম সহযোগি হয়ে দিনের পর দিন সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন।

সম্প্রতি এই দূর্নীবাজদ্বয় প্রশাসনের জালে ধরা পরায় সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান তার নিজস্ব বাহীনি মারফত সকল অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফরিদপুর তথা দেশকে কলুষিত করার যে ধীঢ় প্রত্যয় নিয়ে জঘন্য অপরাধ করেছে তা সকলের কাছে এক ভয়ঙ্কর বিস্ময় এর সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়াও গত ৩১ শে জুলাই ২০১৯ তারিখে স্থানীয় সরকার শাখায় স্বারক নম্বর ০৫১২২৯০০০১০০১১৯/৩৬৯ অনুযায়ী এই মেহেদী হাসান মিন্টু চেয়ারম্যান ৫ নং ডিক্রীরচর ইউনিয়ন পরিষদ, ফরিদপুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আগামী সংখ্যায় আরো পড়ুন মিন্টুর খুটির জোর কোথায়?

Prayer Timer

Prayer Timer

Share

আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Jamat Salat Time and Date

Jamat Salat Time and Date

যোগাযোগঃ- এস-টেক সপ
৩১,৩২ রাকিবউদ্দীন পৌর মার্কেট গোয়লচামট,ফরিদপুর।
মোবাইলঃ 01733160122
ওয়েবঃ https://s-techshop.com

অটো ব্রিকস্

অটো ব্রিকস্

স্বয়ংক্রিয় মেশিনে উৎপাদনকৃত

© স্বত্ব দৈনিক নাগরিক দাবী  - ২০১৯-২০২১
Design by S-Tech Shop