বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০১:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ফরিদপুরের কানাইপুরে খাঁজা বাহিনীর অত্যাচার থেকে মুক্তি চায় ইউনিয়ন বাসী ফরিদপুরে ফাইভ আর ইলেকট্রনিক্স এর শোরুম উদ্বোধন ফরিদপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিদ্যালয় খোলা রাখায় জরিমানা সালথায় হামলাকারি সন্ত্রাসী পিকুলের খুটির জোড় কোথায়………….প্রশ্ন এলাকাবাসীর সালথায় গুজবে তান্ডবের ঘটনায় এসি ল্যান্ডের মারধরের সত্যতা মেলেনি : ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৩ কোটি ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ফরিদপুর সদর উপজেলা সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখন জেলার মডেল উপজেলা ফরিদপুরের রথখোলা পতিতা পল্লীর যৌনকর্মীদের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন শেষে স্মারকলিপি প্রদান হাজার হাজার মুসল্লিদের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান বেলায়েত ফকিরের পিতার দাফন সম্পন্ন ধর্মের নামে যারা ইসলামকে কুলশিত করবে তাদের প্রতিহত করতে হবে – ফারুক খান

কোভিড-১৯ ও শিক্ষা কার্যক্রম

  • Update Time : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১, ১২.২৩ পিএম
  • ৬০ Time View

কোভিড-১৯ ও শিক্ষা কার্যক্রম

মো: তবিবুর রহমান, প্রভাষক পদার্থবিদ্যা
ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজ
—————————————————–

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ এর মহামারী নিয়ন্ত্রনের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমনের কারনে গত ১৭ই মার্চ ২০২০সাল থেকে স্কুল কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠন বন্ধ ঘোষনা করেছিলেন যা আজ অবধি চালু হয়নি। এরই মধ্যে বাতিল হয়েছে পিএসসি, জেএসসি, এইচ এসসি এবং সব শ্রেনীর বার্ষিক পরীক্ষা। ইতোমধ্যে র্দীঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার শর্তে সকল অফিস, আদালত, শিল্প কারখানা ও গণপরিবহন পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিল এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এখনও চালু আছে।

বিভিন্ন পর্যায়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে সেটি হলো কবে নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পূনরায় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে ? ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রানলয় স্কুল কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ ২২ মে ২০২১ ইং পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। সুতরাং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উৎকন্ঠিত এই ভেবে যে, কবে নাগাদ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে এবং কি ভাবে শুরু হবে? একদিকে অভিভাবকেরা যেমন সন্তানদের শিক্ষা জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে কোভিড-১৯ এর সংক্রমনের ঝুকির বিষয়টি নিয়েও একই ভাবে শক্সিকত।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রাসক্সিগক বিষয় হলো এ মূহুতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হলে আদৌও তা যুক্তিযুক্ত হবে কী ? শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে । আমরা সকলেই জানি যে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনাতন পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। একই কক্ষে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হয়। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে এবং যদি কোন ক্লাসে একজন শিক্ষার্থীও কোভিড-১৯ এর জীবানু বহন করে তবে কয়েক দিনের মধ্যে ক্লাসের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী সংক্রমিত হতে পারে এবং তাদের মাধ্যমে পরিবারের অন্যান্য সদস্য সংক্রমিত হতে পারে ।

এই প্রক্রিয়ায় চললে কমিউনিটিতে প্রায় বেশীর ভাগ মানুষ সংক্রমিত হবে। বিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশে শ্রেণী কক্ষে এবং স্কুল কলেজ ক্যাম্পাসে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবং সকল প্রকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে পূনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছিল। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ ও প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পথে হ্যান্ডস্যানিটাইজার প্রদানসহ সকল প্রকার প্রতিরোধমূলক ব্যব¯হা গ্রহণ করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেও কোভিড-১৯ এর সংক্রমন রোধ করতে পারেনি।

উদাহরনসরুপ বলা যায় যে, ফ্রান্সে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রথম দিনেই ৯০ জন শিক্ষার্থী সংক্রমিত হয়েছিল। একই সময়ে দক্ষিন কোরিয়াতে ও স্কুল শুরুর করার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সংক্রমন বেড়েছে। ফলে পরি¯িহতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করি তাহলে বলা যায় যে, সেখানকার মত প্রতিরোধমূলক ব্যব¯হা নিশ্চিত করা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্ভব না। এছাড়াও আমরা যদি আমাদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কথা বিবেচনা করি তাহলে এ কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে বেশীর ভাগ অভিভাবকের পক্ষে সন্তানদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সক্ষমতা নেই।

এমনকি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষে ক্লাসের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে শিক্ষাথীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা বা নিয়মিত বিরতিতে শিক্ষার্থীদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া সম্ভব না। তাহলে আমার প্রশ্ন হলো কিভাবে আমরা অগ্রসর হবো ? এর স¤ভাব্য উত্তর হলো (আমার মতে) আমাদের সকলের পরিবর্তিত পরি¯িহতির সাথে খাপ খাইয়ে নেবার চেষ্টা করা। সরকারের দ্বায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের উচিত সকল শিক্ষার্থীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারে এমন ধরনের অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা।

দেশের বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেহেতু সনাতন পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয় তাই এটিকে একটি সফল অনলাইন ভিত্তিক পাঠদান করার ব্যব¯হা করা। কিন্তু এই পদ্ধতি পরিচালনা করা কঠিন ও ব্যয় বহুল। তবে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যদিও সরকার সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে কিন্তু এর সফলতা নিয়ে অনেক সংশয় রয়েছে। কারন ডিভাইস ও নিরবছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা না থাকায় ৬৮% শিক্ষার্থীর কাছে সেই সেবা পৌছায়নি।

অনেকের কাছে আমার মতামত গ্রহনযোগ্য নাও হতে পারে- এটিই স্বাভাবিক। তবে শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর পূর্বে শিক্ষার্থীদের স্বা¯হ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।অন্যথায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমন ছড়িয়ে পড়তে পারে যা আমাদের আরো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এটি হলে শুধুমাত্র অভিভাবকরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না, বিষয়টি সরকারের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে আমি মনে করি। আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী মহোদয়,মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী যথার্থভাবেই এই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন বিধায় বিভিন্ন সভায় উল্লেখ করেছেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কোভিড-১৯ এর সংক্রমন পরিস্থিতির উন্নতির উপর। গত মাসে আমি আমার কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় শিক্ষা বিষয়ক একটি জুম মিটিংএ অংশ গ্রহন করেছিলাম।

সেখানে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন কোভিড-১৯ এর পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি যা বলেছিলেন তা হলো ”ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল” উভয় ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। যেটা আমার কাছে অত্যান্ত ফলপ্রসু বলে মনে হয়েছে। কিন্তু কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন যারা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের উচিত এই ধরনের প্রভাবের বাইরে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে বাস্তবতার আলোকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করা।

Prayer Timer

Prayer Timer

Share

আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Jamat Salat Time and Date

Jamat Salat Time and Date

যোগাযোগঃ- এস-টেক সপ
৩১,৩২ রাকিবউদ্দীন পৌর মার্কেট গোয়লচামট,ফরিদপুর।
মোবাইলঃ 01733160122
ওয়েবঃ https://s-techshop.com

অটো ব্রিকস্

অটো ব্রিকস্

স্বয়ংক্রিয় মেশিনে উৎপাদনকৃত

© স্বত্ব দৈনিক নাগরিক দাবী  - ২০১৯-২০২০
Design by S-Tech Shop